মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর নেট সম্প্রসারণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২১ দফা প্রাক-বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইআরএফের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
ইআরএফ জানায়, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা জরুরি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সংকোচনমূলক নীতি নয়, বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহ চেইনে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে লাভের সীমা নির্ধারণ, দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং ওপেন মার্কেট সেল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বিভাগীয় শহরে মানসম্মত হাসপাতাল স্থাপন এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আমদানি শুল্ক সমন্বয় এবং এসএমই খাতে সহায়ক নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেছে ইআরএফ।
প্রস্তাবনায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, ট্রান্সফার প্রাইসিং আইন কার্যকর করা এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর নেট সম্প্রসারণ, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।