ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনায় বিশেষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের কড়া অবস্থানের অংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানাচ্ছে, পরিকল্পনায় আর্থিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রিয়ালভিত্তিক টোল সিস্টেম চালু করা, ইরানের সার্বভৌম ভূমিকা কার্যকর করা এবং প্রণালীর অপর প্রান্তে থাকা ওমানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের পক্ষ থেকে ফি আদায় করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেহরান প্রণালী ব্যবহারকারী যেসব জাহাজ এই দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত, তাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন এখনও কিছু জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করছে, তবে এসব জাহাজ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট অনুমোদিত পথ ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইরান আরও ২০টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যা বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, যেগুলো প্রধানত ভারতের জন্য জ্বালানি বহন করছে। এছাড়া ভারতীয় পতাকাবাহী ১৮টি জাহাজ, যেগুলো এলপিজি, অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বহন করছে, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে নোঙর করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিছু তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে একটি ‘সৌজন্যমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচিত। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামান্য স্থিতিশীলতা আনলেও, ইরানের নতুন টোল নীতি ও মার্কিন-ইসরাইলি জাহাজ নিষিদ্ধকরণের ঘোষণা অঞ্চলটিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।