ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দুই নেতার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডালিয়া শাইন্ডলিন বলেন, নেতানিয়াহু যত বেশি সম্পর্ক ভালো থাকার কথা বলছেন, ততই বোঝা যাচ্ছে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তার মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৮ সালে ট্রাম্পকে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছিলেন নেতানিয়াহু। পরবর্তীতে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম আরও জোরদার হয়।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান যে, ইরানের পরমাণু হুমকি মোকাবিলায় যুদ্ধই একমাত্র সমাধান এবং দ্রুত জয় সম্ভব। তবে যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো এগোয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাসের দাবি, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন— ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, জনগণ বিদ্রোহের মুখে এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটিই ঘটেনি।
বরং ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হয় এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করে। এতে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিক থেকেই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর হতাশ হতে শুরু করেন। এমনকি যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ইসরাইল বা নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করাও কমিয়ে দেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালে ইসরাইলকে অনেক ক্ষেত্রে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। শান্তি আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীর প্রসঙ্গ না থাকায় ইসরাইল অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শ্যাপিরো বলেন, ট্রাম্প এখন ইরান ইস্যুর বাইরে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন। আগামী ১৪ মে চীন সফর এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককে তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু— দুজনের রাজনৈতিক অবস্থানকেই দুর্বল করেছে। নেতানিয়াহুকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প চাপে রয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।