কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরের খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে জেলার গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের ১৩শ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘রাজা বাবু’কে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব ও রাজকীয় গড়নের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় সাড়া ফেলেছে গরুটি। কোরবানির হাটে ‘রাজা বাবু’র সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা।
হাড়িয়াদহ গ্রামের খামারি খলিলুর রহমান জানান, প্রায় তিন বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে ফিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন তিনি। নিয়মিত গোসল, পুষ্টিকর খাবার ও পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় করা হয়েছে গরুটিকে। বর্তমানে এর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৩শ কেজি।
তিনি বলেন, “রাজা বাবুকে বড় করতে গত তিন বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার গোয়ালে আরও কয়েকটি গরু থাকলেও মূল আকর্ষণ এখন এই গরুটিই। এবার কোরবানির হাটে অন্তত ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা দাম আশা করছি।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিশাল আকৃতির হলেও স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত ‘রাজা বাবু’। বেশিরভাগ সময় দড়ি ছাড়াই গোয়ালে রাখা হয় তাকে। প্রতিদিন তিনবার গোসল করানো হয়। খাবারের তালিকায় রয়েছে খোল, ভুসি, খড়, কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য।
খলিলুর রহমানের মেয়ে সানিয়া জান্নাত মিরা বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি গত তিন বছর ধরে অনেক যত্ন আর শ্রম দিয়ে গরুটিকে বড় করেছেন তারা। ভালো দাম পেলে খরচ উঠে আসবে এবং কিছু লাভও হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে ‘রাজা বাবু’র খ্যাতি এখন শুধু হাড়িয়াদহ গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য দাম ও ওজন নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, এবছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৫৪ হাজার ১৮৪টি। এছাড়া মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ বিপুল সংখ্যক পশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার খামারিরা গবাদিপশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন।