আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-এর ওপর ইরান-এর ‘কোনো আস্থা নেই’। তবে ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে তেহরান আলোচনায় আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার ব্রিকস সম্মেলন-এ যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লি-তে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িত নয়—এমন জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে সেক্ষেত্রে ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-কে তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি।
আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী বার্তা ইরানের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, যদিও পরিস্থিতি কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান প্রসঙ্গে তার ধৈর্য কমে আসছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।
চীনের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আরাঘচি বলেন, চীন-এর সঙ্গে ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে এবং বেইজিংয়ের যেকোনো আন্তরিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে তেহরান স্বাগত জানাবে।