নিজস্ব প্রতিবেদকL: বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও গবেষণায় আগামী জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি ছাড়া কোনো দেশ উন্নত হতে পারে না। তাই দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেও দেশের কল্যাণে ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রবিবার (১৭ মে) সকালে রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা, ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, “আজকের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও উন্নত দেশগুলো বিজ্ঞানের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো মেধাবী বিজ্ঞানীদের নিয়ে কাজ করছে। আমাদের শিক্ষার্থীরাও বিদেশে যাবে, জ্ঞান অর্জন করবে, নতুন কিছু আবিষ্কার করবে; তবে সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের জন্য কাজে লাগাতে হবে।”তিনি বলেন, দেশের গরিব মানুষের টাকায় একজন শিক্ষার্থী ডাক্তার, প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী হন। তাই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা উচিত।
বিজ্ঞান গবেষণায় বরাদ্দের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিজ্ঞানে অনেক সম্ভাবনাময় অবস্থানে থাকলেও পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাবে অন্যান্য দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এখন বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিজ্ঞানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় খাল খননের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একইসঙ্গে ইরি ধানের উৎপাদন ও কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইন্দোনেশিয়া থেকে ইরি ধান দেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা তা উন্নত করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটান।
খাবার স্যালাইন বা ওরস্যালাইনের আবিষ্কারকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বের অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে। একসময় কলেরায় হাজার হাজার শিশু মারা গেলেও এখন সহজলভ্য ওরস্যালাইন অসংখ্য প্রাণ বাঁচাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম সুউচ্চ ভবন শিকাগোর উইলিস টাওয়ারের নকশাকার বাংলাদেশি স্থপতি ফজলুর রহমান খান। একইভাবে বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু-এর অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, “আজকের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মধ্যেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। তারাই একদিন দেশকে বিশ্বদরবারে নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে যাবে।” অনুষ্ঠানে তিনি বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ আল মামুন, মোহাম্মদ নাইমুল হাছান এবং ড. মো. ইব্রাহিম আলী। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কলেজের ৪৮টি দল বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলী ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।