নেইমারকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সব ধোঁয়াশার অবসান হয়েছে। কার্লো আনচেলত্তি শেষ মুহূর্তে তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন। ফলে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল-এর জার্সিতে আবারও মাঠে নামবেন সান্তোস তারকা। আর তাতেই কিংবদন্তি পেলের একটি অনন্য রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।
ব্রাজিলের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পেলে চারটি বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছিলেন। নেইমার প্রথমবার এই জার্সি পরেন ২০১৪ বিশ্বকাপে। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও ১০ নম্বর জার্সিতেই খেলেছেন তিনি। তিনটি বিশ্বকাপে তার সংগ্রহ ১৩ ম্যাচে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। আসন্ন বিশ্বকাপেও একই জার্সি পেলে পেলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি।
২০২৩ সালের পর থেকে ব্রাজিলের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি নেইমার। এই সময়ে জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তবে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের পর আবারও তার কাছেই ফিরছে ঐতিহ্যবাহী এই জার্সি।
২০২৪ কোপা আমেরিকায় ১০ নম্বর জার্সি পরার কথা ছিল রদ্রিগোর। কিন্তু ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান তিনি। তখন রদ্রিগো বলেছিলেন, এই জার্সি মূলত নেইমারের এবং তিনি শুধু সাময়িকভাবে এটি ব্যবহার করছেন।
পেলে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন। তার হাত ধরেই জার্সিটি বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ মর্যাদা পায়। ১৭ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপে খেলেই তিনি সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা ও ফাইনালে গোল করা ফুটবলার হন। পরে ব্রাজিলকে তিনটি বিশ্বকাপ জিতিয়ে ১০ নম্বর জার্সিকে কিংবদন্তির আসনে বসান।
এখন সেই ইতিহাসের পাশে নিজের নাম লেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন নেইমার। তবে পেলের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা এখনও জেতা হয়নি তার। আনচেলত্তির অধীনে হয়তো সেটিই হতে পারে তার শেষ বড় সুযোগ।
২০২২ বিশ্বকাপের পর ইনজুরি ও ক্লাব পরিবর্তনের কারণে জাতীয় দলের হয়ে মাত্র চারটি ম্যাচ খেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।