বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের কোনো নাগরিক যদি ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চান, তাহলে তাকে নিজ দেশের পাসপোর্টের অবস্থা অবশ্যই জানাতে হবে এবং এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইতোমধ্যে এ মর্মে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভারতের নাগরিক হতে চাওয়া কোনো বাংলাদেশি, পাকিস্তানি বা আফগানের কাছে নিজের দেশের কোনো বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকা চলবে না।
কোনো আবেদনকারীর কাছে বৈধ পাসপোর্ট থাকলে তাকে সেই পাসপোর্টের নম্বর, কবে জারি হয়েছে এবং মেয়াদ কত দিন—এসব তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারী তার কাছে থাকা বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপার বা সুপারের কাছে জমা দেবেন।
২০০৯ সালের ওই বিধি সংশোধন করে তাতে নতুন একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বলা হয়েছে, এটি বিধিমালার ১সি তফসিলের পরে সংযোজন করা হবে। উল্লেখ্য, ওই ১সি তফসিলটি ভারতের নাগরিকত্ব পেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও আফগান হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের জন্য প্রযোজ্য।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) জারি করেছিল ভারত সরকার। ওই সংশোধিত আইনে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা নথিপত্রহীন অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করা হয়। এবার সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধিও সংশোধন করা হলো।