রাজধানীর পল্লবীতে নির্যাতন ও হত্যার শিকার সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ঘিরে এখনও শোক আর ক্ষোভে উত্তাল পুরো এলাকা। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিরপুরের পল্লবী এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হন শত শত মানুষ। দোষীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামিসার বাসার সামনের সড়কটি যেন শোক আর প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিচার দাবিতে অংশ নেন। স্থানীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালেই দুপুর ১২টার দিকে রামিসার পরিবারের সদস্যদের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হতে দেখা যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারা রামিসার কুলখানিতে অংশ নিতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।
স্বজনরা জানান, কয়েকদিন পরই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল ছোট্ট রামিসার। কিন্তু সেই আনন্দের বদলে এবার পরিবারকে ফিরতে হচ্ছে গভীর শোক বুকে নিয়ে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, বুধবার এশার নামাজের পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে রামিসাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে এখনও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।