তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শরীরকে আর্দ্র রাখা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সমস্যা হলো, পানিশূন্যতার লক্ষণ সবসময় তৃষ্ণা হিসেবে প্রকাশ পায় না। অনেকেই নিয়মিত পানি পান করার পরেও শরীরে পানিশূন্যতা অনুভব করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ঘাম এবং খনিজ পদার্থের ক্ষয়ের মতো বিষয়গুলো শরীরের তরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। শরীর গ্রহণ করা তরলের চেয়ে বেশি তরল হারালে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, যা প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা সত্ত্বেও শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
১. ক্লান্তি ও দুর্বলতা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, তবে সেটি শরীরে পানির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। শরীরে তরলের অভাব হলে রক্ত সঞ্চালনের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে সমস্যা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য ডিহাইড্রেশনও সতর্কতা কমিয়ে দেয় এবং ক্লান্তি বাড়ায়।
২. ঘন ঘন মাথাব্যথা
বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বারবার মাথাব্যথা হলে সেটি পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে। শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট হলে রক্তপ্রবাহে পরিবর্তন আসে, যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক হলে এই ধরনের মাথাব্যথা অনেকটাই কমে যায়।
৩. গাঢ় হলুদ প্রস্রাব
শরীরে পানির ঘাটতি বোঝার সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রঙ লক্ষ্য করা। যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বেশি ঘন হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীর পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যায়।
৪. মনোযোগে ঘাটতি
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া বা মানসিকভাবে ঝিমঝিম অনুভব করাও ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। শরীরে পানির সামান্য ভারসাম্যহীনতাও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশন মনোযোগ ও মানসিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
৫. পানি পান করেও তৃষ্ণা অনুভব
পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও যদি দুর্বলতা বা তৃষ্ণা অনুভূত হয়, তাহলে এর পেছনে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা কাজ করতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সোডিয়ামসহ প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি নয়—অনেক সময় শরীরের লবণ ও খনিজের ঘাটতিও পূরণ করা প্রয়োজন হয়।