উত্তরবঙ্গমুখী ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আংশিক যানজট থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আমিন বাজার, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ঢাকা ইপিজেড এলাকায় কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য মহাসড়কে এখনো বড় ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
এস আর ট্রাভেলসের কল্যাণপুর কাউন্টার মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম আলাল জানান, ঢাকা ইপিজেড, বাইপাইল ও আশুলিয়া এলাকায় লোকাল বাস ও অটোরিকশা এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, ২৪ মে রাত থেকেই ঈদযাত্রার চাপ শুরু হয়েছে। সোমবার রাত থেকে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্যামলী এনআর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার গোলাম রব্বানী বলেন, এখন পর্যন্ত যাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের যাতায়াত শুরু হলে সড়কে চাপ অনেক বেড়ে যাবে।
এদিকে, এস আর ট্রাভেলসের হেলপার আব্দুল মান্নান শেখ জানান, বগুড়া থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও আমিন বাজার থেকে গাবতলী পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা পার হতে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের চালক সুজন মিয়া বলেন, ঢাকা ইপিজেড এলাকায় যানজট আরও বাড়তে পারে। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে।
অন্যদিকে, কল্যাণপুর বাস কাউন্টার এলাকায় যাত্রীদের জন্য সামিয়ানা টানিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকেই আগেভাগে এসে বাসের অপেক্ষা করছেন। তবে ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানোয় যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি দেখা গেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার ও মঙ্গলবার রাত হবে ঈদযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় মহাসড়কে কঠোর নজরদারি ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীরা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।