বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
এদিন রাজধানীর ১৬টি স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একে একে বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হয়ে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনের শপথ নিতে হবে। কারণ তার রাজনীতি ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ গঠন করা। তাই আমাদের আজও তার আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে সেটিই হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে তিনি বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পিছিয়ে থাকা মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান দেশের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাই সচেতন হলে দেশ ও শহর আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে উন্নয়ন ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেই আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশটি কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের একার নয়। বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
এর আগে সকালে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।