পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের প্রধান জামাত, জাতীয় ঈদগাহসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের জামাত, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শপিং এলাকা, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তাই নয়, সাইবার জগতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা ঠেকাতে ডিএমপির সাইবার পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কমিশনার বলেন, “বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রচারণা চালানোর চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি এবং আমাদের সাইবার টিম নিয়মিত মনিটরিং করছে।”
ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ এবং আশপাশের এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া ঈদের পুরো ছুটিকালজুড়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
পুলিশ সদস্যদের ছুটির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। যেসব সদস্যকে ছুটি দেওয়া হয়েছে, তা মোট সদস্যের ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীবাসী যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।