কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে ওঠা আলোচনা ও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট অর্থ কোনো ব্যক্তি গ্রহণ করেননি; বরং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভ বক্তব্যে তিনি প্রায় ৪৩ মিনিট ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য ও বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচিত অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ। এমনভাবে বলা হয়েছে যেন টাকা ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অথচ বাস্তবে তা নয়।”
তিনি আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই দেবীদ্বার এলাকায় এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব খাত মিলিয়ে মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার ১৪৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্য এবং অনলাইনে দেখা যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর এই নেতা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হয়েছে এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার পরিচালিত ‘জবাবদিহিতা’ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “যে কেউ ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করলেই কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা দেখতে পারবেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত।”
তিনি বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকল্পভিত্তিক সব তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো দুঃখজনক।