রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর একদিন পর মঙ্গলবার (২ জুন) আদালতে প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন-এর আদালতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা-এর জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার-কে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন নিহত রামিসার বাবা-মা, বোন, চাচা-চাচী, প্রতিবেশী এবং পুলিশ সদস্যরা। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আইনে ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, রামিসা পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুল-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে একটি স্যান্ডেল দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। তার মাথা বাথরুমের একটি বালতির ভেতরে পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথাও উল্লেখ করে।