জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী শবনম। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফল প্রকাশের পর কয়েকটি বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে জুরিবোর্ড সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় সংশোধন আনা হয়।
শবনম বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। ষাট ও সত্তরের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। রোমান্টিক ও সামাজিক ধারার চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।
তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে চকোরী, চাঁদ অউর চাঁদনী, দূর দেশ, দিল দিয়া দর্দ লিয়া এবং আঞ্জুমান। এসব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
সেরা চিত্রনাট্যে পরিবর্তন
সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তার নাম ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে তিনি চিত্রনাট্য রচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুনর্মূল্যায়নের পর এবার তাসনীমুল হাসান-কে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মরণোত্তর সম্মাননা বহাল
এর আগে প্রকাশিত তালিকায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু-এর নাম আজীবন সম্মাননার জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নীতিমালায় জীবিত ব্যক্তিদের আজীবন সম্মাননা দেওয়ার বিধান থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
পরে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে শবনম ও চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক-এর নাম আজীবন সম্মাননার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়াত তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।