ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চায়, তারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়। অথচ এখানে সাংস্কৃতিক চর্চা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২১ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-এর সঙ্গীতাঙ্গনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে জেলায় কোনো কার্যকর সিনেমা হল নেই, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নানা সংকটে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি পারিবারিক ও সামাজিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী কেন বন্ধ করতে হবে? যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, হত্যা ও দুর্নীতি রোধে হিমশিম খায়, সেই রাষ্ট্র বা প্রশাসন কেন একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় নীরব থাকবে?”
মানববন্ধনে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বাংলাদেশের ঐতিহ্য হচ্ছে সহাবস্থান। এখানে যেমন আজানের ধ্বনি শোনা যায়, তেমনি বাউল গানের সুরও বেজে ওঠে। এই বৈচিত্র্য নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।”
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফতি আল জাবেদ এবং সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি ফাহিম মুনতাসির। বক্তারা দ্রুত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস চলচ্চিত্রের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কিছু সংগঠনের বিরোধিতার মুখে আয়োজকরা অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেন। ঘটনাটি নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।