মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সর্বশেষ ঘটনায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপ ও গোরুক এলাকার রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং অপর একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলায় মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। পরে ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।
গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা এখনো চূড়ান্ত ফল দেয়নি। কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা সফল না হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।