ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২৯ জন। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোমবার (৮ জুন) সকালে সংঘটিত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও উপকূলের কাছে সারাঙ্গানি অঞ্চলের অদূরে। শক্তিশালী কম্পনের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই সকসসারজেন অঞ্চলের বাসিন্দা। ভবন ধস, দেয়াল ভেঙে পড়া এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট দাগোন জানিয়েছেন, জেনারেল সান্তোস শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভবন ও বসতবাড়ি ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি স্কুল, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র সম্ভাব্য সুনামির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। পরে কিছু এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ধীরে ধীরে সতর্কতার মাত্রা কমানো হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বহু এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয়ই ভূমিকম্পপ্রবণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রায়ই আঘাত হানে।