ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে দেশটির বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) ভোরে রাজধানী তেহরান, ইসফাহান এবং তাবরিজ-সহ মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ভোরের দিকে একাধিক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানে অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে ইসফাহানেও একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনা করেছে। তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে রোববার রাতে ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেই হামলার প্রতিক্রিয়াতেই ইসরাইল এই পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রোববার বৈরুত-এ ইসরাইলের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটিতে আগমন ও বহির্গমন ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিমানবন্দরটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত এপ্রিল মাসে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের ওপর পড়তে পারে।