ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের সারাঙ্গানি উপকূলের অদূরে সমুদ্রে। শক্তিশালী কম্পনে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্রও সম্ভাব্য সুনামি ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেল সান্তোস শহরে একটি বাণিজ্যিক ভবন ও জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান জলিবির একটি শাখা ধসে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, “এখনই উঁচু স্থানে চলে যান, অপেক্ষা করবেন না। জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই।”
ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর একই এলাকায় ৬ দশমিক ১ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে, ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাপান, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনির কিছু উপকূলীয় এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে এক মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।