২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর আবারও এই অনুপাত ২ শতাংশে পৌঁছালো দেশের শিক্ষা বাজেট।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এই প্রস্তাব তুলে ধরেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সরকারি অঙ্গীকারও ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষায় বরাদ্দ কত হলো
নতুন বাজেট প্রস্তাবে শিক্ষাখাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।
সরকার বলছে, শিক্ষা খাতে এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
দীর্ঘদিনের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড
শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সুপারিশ করে আসছে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। তবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ ২ শতাংশের নিচেই ছিল।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে বাজেট প্রস্তাবে অনেক সময় ২ শতাংশের কাছাকাছি গেলেও বাস্তবায়িত বাজেটে তা আবার কমে নেমে এসেছে ২ শতাংশের নিচে।
বরাদ্দ বৃদ্ধির ধারা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দ ছিল ১.৮৩ শতাংশ, যা পরবর্তী বছরগুলোতে কমে ১.৬৯ শতাংশে নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা আরও কমে ১.৭ শতাংশে দাঁড়ায়।
এবারের বাজেটে পুনরায় ২ শতাংশে উন্নীত করাকে শিক্ষা খাতের জন্য একটি “রিভার্স ট্রেন্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টাকার অঙ্কে বড় বৃদ্ধি
টাকার অঙ্কে এবার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা শিক্ষা খাতে বড় ধরনের “জাম্প” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, বরাদ্দ বাড়ানো ইতিবাচক হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, অনেক সময় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দুর্নীতির কারণে লক্ষ্য পূরণ হয় না।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ
নীতিনির্ধারকদের মতে, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়লেও প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো—
- প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
- দুর্নীতি ও অপচয় কমানো
- বরাদ্দ অর্থ দ্রুত ও কার্যকরভাবে ব্যয় করা
- শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু বরাদ্দ নয়, ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার সংস্কারও জরুরি।