নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের সূচনা ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে-কে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে স্বাগতিকরা।
১৯৯৪ সালের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলটি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। জোড়া গোল করেন ফোলারিন বালোগুন। এছাড়া একটি গোল করেন জিওভান্নি রেইনা এবং আরেকটি গোল আসে প্যারাগুয়ের এক আত্মঘাতী ভুল থেকে।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে চার গোল করার কীর্তি গড়ল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে মার্কিন দল তিন গোলের বেশি করতে পারেনি।
নতুন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো-র অধীনে বদলে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, যা বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রথমার্ধের লিড।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে পুলিসিচের আক্রমণ থেকে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ৩১তম মিনিটে প্রথম গোল করেন বালোগুন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি।
নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এবং ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপ অভিষেকেই জোড়া গোল করে আলোচনায় উঠে আসেন। ১৯৩০ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো মার্কিন খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে একাধিক গোল করার এটিই প্রথম ঘটনা।
ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে একটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। যদিও বিরতির পর তাকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে তার চোট নিয়ে বড় কোনো উদ্বেগ নেই বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৭৩তম মিনিটে প্রাদো মরিসিও একটি গোল শোধ দেন। তবে ম্যাচের শেষদিকে রেইনার চমৎকার ফিনিশিং যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানেরও বার্তা দিয়েছে।