মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অবসানে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শাহবাজ শরিফ দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং চুক্তি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। পাকিস্তানও জানিয়েছে, সম্ভাব্য একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন যে, রোববারই চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অগ্রগতি হতে পারে, তবে আলোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনার মধ্যেও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশপাশে কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনা শুরু করা। তবে পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। দেশটির কিছু অংশ শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করলেও কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আপত্তি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বাধা অতিক্রম করতে হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।