মোঃ আমজাদ হোসেন : জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়নের হাটখোলা সীমান্ত দিয়ে এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিজিবি বৃদ্ধকে পুনরায় ভারতের সীমান্তে ফেরত পাঠালে বিএসএফ তাঁকে আবার সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রোববার (১৪ জুন) হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ওই বৃদ্ধকে শূন্যরেখার একটি ডোবার পাশে বসিয়ে রাখে বিএসএফ।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আনুমানিক ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ সীমান্তের শূন্যরেখায় একটি ডোবার মধ্যে বসে আছেন। ডোবার বাংলাদেশ অংশে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী অবস্থান নেন। অপর পাশে অবস্থান নেয় বিএসএফ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে সীমান্তসংলগ্ন মাঠে কাজ করার সময় কয়েকজন কৃষকের কাছে এসে ওই বৃদ্ধ খাবার ও পানি চান। তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক পরিচয় দিয়ে জানান, ভোরের দিকে বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে কৃষকেরা বিষয়টি হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পে জানালে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে ভারতের সীমান্তে ফেরত পাঠান। কিন্তু বিএসএফ তাঁকে গ্রহণ না করে আবার শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে।
হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা বাবু হোসেন বলেন, “বৃদ্ধ লোকটি খুব তৃষ্ণার্ত ছিলেন। আমরা তাঁকে পানি দিই। পরে বিজিবি তাঁকে ভারতের দিকে ফেরত পাঠালেও বিএসএফ তাঁকে আবার শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে।
তিনি আরও জানান, ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে আরও কয়েকজন লোককে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাঁদেরও বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হতে পারে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিএসএফ এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাঁকে পুশব্যাক করেছি। তিনি ভারতের নাগরিক। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।