কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এই কর্মসূচির বিশেষ তাৎপর্য হলো, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান যে স্থান থেকে পাতলী খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন, প্রায় পাঁচ দশক পর একই স্থান থেকে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে এলাকার পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজের সুবিধার জন্য জিয়াউর রহমান নিজ উদ্যোগে পাতলী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সে সময় খালের পাড়ে রোপণ করা একটি খেজুর গাছ এখনও ঐতিহাসিক স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দর-এ পৌঁছালে প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের উদ্বোধনের পর তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে নিহত ওয়াসিম আকরাম-এর কবর জিয়ারত এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কর্মসূচি রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়ায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের শেষদিকে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শন এবং হোটেল লং বিচে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পুরো কক্সবাজার জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।