পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে দেশটি যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে না এগোয়। তার ভাষায়, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়। তারা যদি এটি তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’
তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ রুদ্ধ করবে। এ বিষয়ে তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, দেশটিতে এখন ‘যথাযথ নেতৃত্ব’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য উভয় পক্ষকে ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ আরও সহজ হবে।
তবে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা তার পছন্দ হয়নি।
হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, একজনকে খুঁজতে পুরো অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। এসব ভবনে অনেক সাধারণ মানুষ বসবাস করে এবং সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত নয়।
তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এ ক্ষেত্রে সিরিয়া আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা চলমান থাকলেও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি টিকে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, ‘ইরানই বড় বিষয়। হিজবুল্লাহ একটি ছোট কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা, যা বারবার সামনে চলে আসে।’
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে বলেও জানান তিনি।