দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষা কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ২০২৮ সাল থেকে নতুন বই হাতে পাবে।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুর-এ অবস্থিত সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষাকে বাদ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও কারিগরি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে ইতোমধ্যে ৫৩টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে আরও কয়েকটি নতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, সৃজনশীল শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। সেই অনুযায়ী ২০২৮ সালে নতুন সিলেবাস ও কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পাবে। এর আগে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিমার্জিত পাঠ্যবই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কার্যক্রম আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
উচ্চশিক্ষায় সেশনজট কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা সেশনজটের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভরতা থেকে দূরে থাকবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানের নেতৃত্ব তৈরি করা সম্ভব হবে।