দেশের তিন সীমান্ত জেলা—জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এ অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) পৃথক তিনটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জয়পুরহাট সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা-র ধরঞ্জি ইউনিয়নের হাটখোলা সীমান্তে সোমবার এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়। পরে বিএসএফ তাকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখলেও রাতের দিকে নিজেদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় সাত স্তরের নিরাপত্তা বলয়
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ১৪ জুন ভোরে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি ও স্থানীয় জনতা।
ঘটনার পর জেলার ১৪৫ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিশেষ সাত স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, কমিউনিটি পুলিশ ও জেলা পুলিশকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কৃষকদের চলাচলেও সাময়িক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত টহল দল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ওই নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। তিনি সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ভারতীয় অংশে অবস্থান করছিলেন।
এর আগে গত ১৩ জুন একই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর আরেকটি প্রচেষ্টাও বিজিবি প্রতিহত করেছিল।
সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর বিজিবি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।