ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে অবৈধ পুশইন বন্ধে জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বিদ্যমান প্রটোকল মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী।
বিজিবি প্রধান পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, অনেকেই ক্ষুধা, অসুস্থতা ও চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে প্রবীণদের জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনগতভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হলে তাদের প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্ধারিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুশইন কার্যক্রম বন্ধ এবং প্রত্যাবাসনে বিদ্যমান প্রটোকল মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীন কুমার বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান, যাতে শনাক্ত ব্যক্তিদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।
সম্মেলনে উভয় পক্ষ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এছাড়া আগামী নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।