ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি বুধবার (২৪ জুন) ৩৯ বছরে পা দিচ্ছেন। জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বে তুলেছেন এই কিংবদন্তি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের পাহাড় গড়েও জন্মদিন উপলক্ষে মেসির চাওয়া খুবই সাধারণ। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জীবনে যা পেয়েছেন তার জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।
মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, ঈশ্বরের কাছে নতুন করে কিছু চাওয়ার ভাষা আমার নেই। খেলাধুলায় তিনি আমাকে সবকিছু দিয়েছেন। এখন আমার একমাত্র চাওয়া আমার নিজের, আমার পরিবারের এবং আমার কাছের মানুষদের সুস্বাস্থ্য।”
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও বলেন, “আমি চাই এই দলের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে। এই দল বছরের পর বছর ধরে মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসছে। প্রতিটি ম্যাচ আমরা প্রথম ম্যাচের মতো গুরুত্ব দিয়ে খেলি। এখানে থাকতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
বিশ্বকাপ জয়ের পরও কেন তিনি এত বিনয়ী—সেই প্রশ্নের উত্তর যেন লুকিয়ে আছে তার ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতায়। জানা গেছে, মেসির বাবা হোর্হে হোরাসিও বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য তার বাবার পাশে থাকার জন্য আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছেন।
বাবার অসুস্থতার প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করলেও মেসির কথায় সেই কষ্টের প্রতিফলন স্পষ্ট ছিল। তিনি বারবার পরিবারের সুস্থতার বিষয়টিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের আগে মেসি বলেছিলেন, “আমি জানি ঈশ্বর আমাকে একটি বিশ্বকাপ দেবেন।” এবার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে কি দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন?
জবাবে মেসি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “আবার বিশ্বকাপ চাওয়াটা হয়তো একটু বেশিই লোভ হয়ে যাবে। ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন, তা-ই আমার জন্য যথেষ্টের চেয়েও বেশি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। একেকটি ম্যাচ ধরে এগোচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবা।”
ফুটবলের অসংখ্য রেকর্ড, আটটি ব্যালন ডি’অর এবং একটি বিশ্বকাপ জয়—সবকিছুর পরও লিওনেল মেসির এই বিনয় ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দিয়েছে। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে যেমন তিনি জাদু ছড়াচ্ছেন, তেমনি মাঠের বাইরেও হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।