সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা Saudia (সৌদিয়া) মে ২০২৬ মাসে প্রস্থান ও আগমন—উভয় ক্ষেত্রেই সময়নিষ্ঠতার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
বৈশ্বিক বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান Cirium-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার মহাদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি গন্তব্যে পরিচালিত ১৩ হাজার ৬৬৯টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদিয়া ৯২ দশমিক ৩০ শতাংশ সময়মতো প্রস্থান এবং ৯০ দশমিক ১২ শতাংশ সময়মতো আগমনের হার অর্জন করেছে।
এই সাফল্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এয়ারলাইনটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজিদের পরিবহন এবং ঈদুল আজহার ছুটিকালীন অতিরিক্ত যাত্রীসেবা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
সৌদিয়া জানিয়েছে, বিভিন্ন অপারেশনাল টিমের সমন্বিত পরিকল্পনা, উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সমাধান ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়েছে, যা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্যবসায়িক ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং বিমান চলাচল খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা এ সাফল্যে সহায়ক হয়েছে। এ অর্জন সৌদি আরবকে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ও আন্তর্জাতিক সংযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত জাতীয় কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও এ অর্জন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে, বিশেষ করে হজ ও উমরাহ মৌসুমে, সৌদিয়া অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে। এয়ারলাইনটির বিশ্বসেরা সময়নিষ্ঠতা হাজারো বাংলাদেশি হাজি, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদিয়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এয়ারলাইন। ১৪৯টি আধুনিক বিমানের বহর নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের প্রায় ১০০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এয়ারলাইনটি International Air Transport Association (আইএটিএ), Arab Air Carriers Organization-এর সদস্য এবং ২০১২ সাল থেকে SkyTeam জোটের অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেবার মান ও সময়নিষ্ঠতার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বীকৃতিও অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।