মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করা হবে এবং এতে ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন-এ ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
জানা গেছে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল আলোচনা শুরু হবে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো এখনো আলোচ্যসূচিতে নেই।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমঝোতাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও স্থায়ী শান্তির জন্য আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি বাণিজ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিচালিত হয়। তবে যুদ্ধ চলাকালে পেতে রাখা মাইন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নৌপথটি পুরোপুরি নিরাপদ করতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে তিন মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
অন্যদিকে, লেবানন-এ ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ-র সংঘাত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইরান লেবাননে সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানালেও ইসরাইল জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
সব মিলিয়ে, অন্তর্বর্তী এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্বস্তির বার্তা দিলেও স্থায়ী শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।