বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ কেন্দ্রিক ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর জিয়া সড়ক এবং কলেজ ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিনসহ উভয় পক্ষের একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় জিয়া সড়ক এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন এবং বিএম কলেজ ছাত্রদলের নেতা সিরাজুল ইসলাম রাতুলের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আল আমিনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে রাতুলপন্থী নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র, পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নেন এবং যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন।
পরবর্তীতে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ঘটনার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা গেছে ভিন্নতা। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম দাবি করেন, এটি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়; বরং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎপরতা প্রতিহত করতে গিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, সিরাজুল ইসলাম রাতুলের নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি আল আমিনের ওপর হামলা চালায় এবং পরে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাতুলপন্থী নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। রাতুলপন্থী নেতা আফজাল হোসেন বলেন, বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জোবায়েরের নেতৃত্বে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার পর বিএম কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।