লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। FIFA World Cup 2026-এ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় উপহার দিলেও ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার গোল নয়, বরং চোখের জল।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। গোল উদযাপনের সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার অশ্রুসিক্ত মুখ। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেকে মনে করেছিলেন, এটি হয়তো তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামার আবেগ কিংবা সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের অনুভূতি।
তবে ম্যাচ শেষে সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজেই। মেসি জানান, কান্নার পেছনে ফুটবলের কোনো কারণ ছিল না; বরং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু কঠিন সময় তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েক দিন ব্যক্তিগত কারণে আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এই সময়ে আমার সতীর্থরা সবসময় পাশে ছিল। তাদের সমর্থন ও ভালোবাসা আমাকে শক্তি দিয়েছে।”
ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটেই মেসি বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। পরে ১৭ মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি তিনি। এরপর আরও দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার প্রশংসাও করেন মেসি। তার মতে, ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
৩৮ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন পারফরম্যান্সে মেসি দেখিয়ে দিলেন, তার ক্ষুধা ও অনুপ্রেরণা এখনও অটুট। তিনি বলেন, “আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটি আমার সবচেয়ে বড় প্যাশন। যখন ভালো অবস্থায় থাকি, তখন নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে চেষ্টা করি।”
অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সেই রাত তাই শুধু একটি হ্যাটট্রিকের গল্প নয়; এটি এক কিংবদন্তির ব্যক্তিগত সংগ্রাম, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার গল্পও। বয়স বাড়লেও মেসির জাদু যে এখনও অমলিন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে।