যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমালোচনার জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটি আগের তুলনায় অনেক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরান কার্যত নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।”
চুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান নেতার সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা স্মারকটি শুধু যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরির একটি উদ্যোগ। তিনি দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, “কিছু সমালোচক বলছেন ইরান চার মাস আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় বসার জন্য ওয়াশিংটনের চেয়ে তেহরানের আগ্রহই বেশি ছিল।
এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত একটি বৈঠক স্থগিত করায় সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি লেবানন-এ নতুন করে সংঘাতের ঘটনাও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি-তে নৌ চলাচল, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা।
ট্রাম্প বলেছেন, “আগামী ৬০ দিন আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এই সময়ের মধ্যেই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের পথ খোঁজা হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন।