লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে জাহাজ দুটি স্থানান্তর করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Boris Pistorius জানান, মাইনসুইপার ‘ফুলদা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এটি একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক কোনো অভিযান শুরু হলে দ্রুততম সময়ে সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলে জার্মানি দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছে অভিযান পরিচালনায় অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জার্মানি প্রস্তুত রয়েছে। তবে যেকোনো সামরিক বা নৌ মোতায়েনের জন্য আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট প্রয়োজন হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জার্মান সরকার পার্লামেন্টের অনুমোদন চাইবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে অনুষ্ঠিত G7 Summit-এ অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে জানানো হয়েছে।
চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এটিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে ‘পারফরম্যান্সভিত্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবে। তবে বেশ কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে, যা পরবর্তী আলোচনা ও চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।