লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক পরিষদের উপপ্রধান মাহমুদ কামাতি বলেছেন, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তাহলে তার ‘যথাযথ জবাব’ দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেছে, কামাতি বলেন, যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে আর ফিরে যাওয়া হবে না। অতীতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিন লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালেও হিজবুল্লাহ সংযম দেখিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে সংগঠনটি।
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দিতে প্রস্তুত। “আমাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে,”—বলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা দিয়েছেন যে, লেবাননের ভেতরে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। তিনি বলেন, সেনারা সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
একই সঙ্গে কাৎজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবাননের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
এদিকে ইরানও জানিয়েছে, লেবাননে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগোনো সম্ভব নয়। তেহরান মনে করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে লেবানন পরিস্থিতির সমাধান জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। সামান্য উসকানি বা সংঘর্ষও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।