বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক শক্তিকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ-এর বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী-র লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, আঞ্চলিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পুনর্বিন্যাস, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন ইস্যু আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকার পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে কূটনৈতিক কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম কূটনৈতিক লক্ষ্য হলো সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশ, আফ্রিকা, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত-এর সঙ্গে পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা, সংযোগ ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার-এর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং রোহিঙ্গা সংকট-এর টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ক-কে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি বিমসটেক-কে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্লু ইকোনমির মতো খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পূর্ব ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকার উদীয়মান শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং কার্যকর বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার মর্যাদা ও প্রভাব আরও সুদৃঢ় করবে।