রাজধানী ঢাকাকে পোস্টার ও অবৈধ বিজ্ঞাপনমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনে অস্থায়ী দোকান থাকার কথা নয়, একইভাবে সেখানে পোস্টার লাগানোরও কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ঢাকা শহরকে পোস্টারমুক্ত করতে চায়। কিন্তু অনেকেই আড়ালে-আবডালে, এমনকি রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন ও পোস্টার লাগিয়ে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছেন।
তিনি বলেন, কোচিং সেন্টার, হোস্টেল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ছোট ছোট কাগজে ঠিকানা ও ফোন নম্বর ছাপিয়ে যত্রতত্র পোস্টার লাগানো হচ্ছে। কোথাও আবার দড়ি টানিয়ে ফেস্টুন ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব করতে কারও অনুমতির প্রয়োজন বলে মনে করা হয় না, অন্যের অসুবিধা হচ্ছে কি না তাও বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে নাগরিক সচেতনতা জরুরি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, কেউ যদি রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় কাউকে দেয়ালে পোস্টার লাগাতে দেখেন, তাহলে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। কারণ, যেখানে-সেখানে পোস্টার লাগানোর কোনো অনুমতি নেই। যারা এ ধরনের কাজ করেন, তাদেরও সচেতন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে আরও সজাগ হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নিয়মিত টহলের সময় নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কেউ রাস্তা, গাছ কিংবা রঙ করা দেয়ালে পোস্টার, ফেস্টুন বা ব্যানার লাগাতে না পারে।
মন্ত্রী বলেন, নাগরিক হিসেবে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কাজ করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করাও সবার দায়িত্ব।
সরকার এ বিষয়ে নতুন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমও সরকারের কার্যক্রমের অংশ। তাই নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে মাটি অপসারণের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের মতে, ওই মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই। বরং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা, পরিবেশগত ভারসাম্য ও পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এটি প্রয়োজন।
রাজধানীর যানজট কমাতে ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো পর্যায়ক্রমে শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মহাখালী টার্মিনালের জন্য উত্তরা সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনালের কার্যক্রম কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী টার্মিনালের জন্য ৩০০ ফুট এলাকায় ডিপো উন্নয়নের কাজ চলছে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের কার্যক্রমও ধাপে ধাপে স্থানান্তর করা হবে।
এ ছাড়া কল্যাণপুর, কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা বাস কাউন্টারগুলোও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ বন্ধ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।