ফুটবলের ইতিহাসে প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব নায়ক থাকে। পেলে, ম্যারাডোনা, জিদান, রোনালদো, রোনালদিনহো হয়ে একসময় বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সময়ের পরিবর্তনে নতুন প্রজন্মের তারকা হিসেবে উঠে এসেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আরলিং হালান্ড।
অনেকের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে এমবাপ্পে ও হালান্ডের বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনও নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন মেসি। সাম্প্রতিক ম্যাচে এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন, হালান্ডও করেছেন জোড়া গোল। তবে একই দিনে মেসিও আবার প্রমাণ করেছেন কেন তিনি এখনও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নাম।
৩৯ বছর বয়সে এসে মেসি আর আগের মতো গতিনির্ভর ফুটবল খেলেন না। বরং অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। এমবাপ্পে যেখানে গতিতে প্রতিপক্ষকে ভেঙে দেন, হালান্ড যেখানে শক্তি ও ফিনিশিংয়ে এগিয়ে, সেখানে মেসি কয়েক মুহূর্তের জাদুতেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।
একসময় মেসিকে ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করা হতো। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আজ নতুন প্রজন্মের তারকাদের মূল্যায়ন করা হয় মেসির মানদণ্ডে। এমবাপ্পে কিংবা হালান্ড যতই সাফল্য অর্জন করুন না কেন, আলোচনায় বারবার ফিরে আসে মেসির নাম।
২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন যুগ প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে। কিন্তু সেই লড়াইয়ের মাঝেও ফুটবলপ্রেমীরা বারবার দেখছেন এক পরিচিত দৃশ্য—স্কোরশিটে লেখা রয়েছে লিওনেল মেসির নাম। আর সেটিই প্রমাণ করে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার প্রভাব এখনও অটুট।