সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
“কৃষিই সমৃদ্ধি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, গাছের চারা, রাসায়নিক সার, জৈব সার ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি অফিসের অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এবং কৃষক প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ আল জিনাত বলেন, কৃষকরাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সার্বিক নির্দেশনায় আজ সোনারগাঁয়ের প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ধান চাষের পাশাপাশি ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে আছে এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের যুগোপযোগী সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আউশ ধান, আমন (উফশী) এবং বিভিন্ন শাক-সবজি চাষে উৎসাহিত করতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এই বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। এসব প্রণোদনা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, সোনারগাঁ কৃষক দলের সভাপতি মোঃ জফলুল হক (ফজলু) মেম্বার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ অলিউল্লাহ খানসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও গাছের চারা তুলে দেন। সরকারি এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকরা আনন্দের সাথে এই সহায়তা গ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।