সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের কুরবানপুর এলাকার রাসেল গ্রুপ ও হামিদ গ্রুপের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। রাতের সেই উত্তেজনার জের ধরে শুক্রবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে রাসেলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পাঁচানী এলাকায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা এনামুল হকের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে দুটি গরু, নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কেটে ব্যাপক ভাংচুর করে। এ ঘটনায় হামিদ গ্রুপের লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুল্লাহ (হাবু) মিয়ার বাড়ি থেকে মসজিদের ১৭ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত সাত হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করা হয়। আমান উল্লাহর বাড়িতে ভাংচুর করে। এছাড়া মনি ও দিদারের বাড়ি থেকে দুটি গরু নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির সামনে থাকা খড়ের পালায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে হামিদ গ্রুপের ব্যাংকার সুমন, জেলে দিদার, জেলে মনিরসহ সাতজন আহত হয়েছেন। অপরদিকে রাসেল গ্রুপের সোহাগসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগের দিন খাসেরগাঁও এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মনির হোসেনের ভাতিজার ছেলে সোহাগকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই শুক্রবার ভোরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।