যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। আলোচনায় দুই দেশই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, সংযম ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শনিবার (২৭ জুন) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের টেলিফোনে কথা হয়। এ সময় তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ফোনালাপে শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে ইরানি নাবিক ও জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
শুক্রবার ইরানে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার স্থাপনায় হামলার পরপরই দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী। এর জবাবেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাহিনীটি।
চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতার আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বর্তমানে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি