দীর্ঘ ২২ মাস পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি। শুধু দুই দেশের ভ্রমণপ্রত্যাশীরাই নয়, সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ী, পরিবহনসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের উদ্যোক্তারা।
টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় গত প্রায় দুই বছর সীমান্ত এলাকার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেট্রাপোল, গেদে ও ফুলবাড়ির মতো সীমান্তে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মানি এক্সচেঞ্জ, পরিবহন ও ছোট ব্যবসাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে মন্দা চলছিল। অনেকেই ঋণ করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন, আবার কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করেই সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষের জীবিকা চলে। তাই টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে আবারও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়েছে।
পেট্রাপোল সীমান্তের পরিবহন ব্যবসায়ী প্রবোধ মজুমদার জানান, আগে প্রতিদিন তিনটি বাস চললেও যাত্রী সংকটে এখন মাত্র একটি বাস চালানো হচ্ছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই লোকসান গুনে সেবা চালু রাখা হয়েছে। ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে তারা নতুন করে আশাবাদী।
সীমান্ত এলাকার সিএনজি চালক সুমন সরকার বলেন, বাংলাদেশি যাত্রী কমে যাওয়ায় অনেক চালক পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। টুরিস্ট ভিসা চালু হলে যাত্রী বাড়বে এবং অনেকেই আবার আগের পেশায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ী নেতা কাত্তিক সাহা বলেন, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।
এদিকে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরাও টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ বাড়বে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।