পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৯৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার রেকর্ড গড়েছে।
এর মাধ্যমে ছবিটি ‘ওপেনহাইমার’ এবং ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-এর আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ফলে সংগীতশিল্পী, বিজ্ঞানী কিংবা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে নির্মিত সব ধরনের বায়োপিকের মধ্যে আয়ের দিক থেকে এখন শীর্ষস্থানে রয়েছে ‘মাইকেল’।
হলিউড নির্মাতা অ্যান্টোইন ফুকা পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব, ‘জ্যাকসন ফাইভ’-এর সদস্য হিসেবে যাত্রা, বিশ্বজুড়ে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার গল্প, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং তারকাখ্যাতির নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো, মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। চেহারা, নাচের ভঙ্গি ও মঞ্চ পরিবেশনায় মাইকেলের সঙ্গে তাঁর অসাধারণ মিল দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়া জো জ্যাকসনের চরিত্রে কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং ক্যাথরিন জ্যাকসনের ভূমিকায় নিয়া লং অভিনয় করেছেন।
মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ২১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে আলোচনায় আসে সিনেমাটি। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাগৃহে ধারাবাহিক দর্শক উপস্থিতির ফলে এর আয় দ্রুত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৯৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে এটি বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা, তাঁর কালজয়ী গান, নৃত্যশৈলী এবং একাধিক প্রজন্মের ভক্তদের আগ্রহ ছবিটির সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি নির্মাতাদের সিনেমাটিক উপস্থাপনাও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
এই নজিরবিহীন সাফল্যের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, সংগীত ও বিনোদনের জগতে মাইকেল জ্যাকসনের প্রভাব আজও সমানভাবে অটুট।