প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই বাজেট কোনো বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং একটি উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের কারণে বাজেট ঘোষণার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি হয়নি। সরকার কোনো সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না; বরং বাস্তবভিত্তিক নীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
অতীতে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কোনো প্রকল্পে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার চেয়ে মানুষের জীবনে সেই প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব কতটা— সেটিই হবে সরকারের মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড।
দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন শিল্প স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষিখাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাখাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা হিসেবে মান্দারিন (চাইনিজ), জাপানি ও ফরাসি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ক্যান্সারের ওষুধসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হবে। এতে বিশেষ করে হার্টের স্টেন্ট প্রতিস্থাপনের ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে সম্পত্তি নিবন্ধনে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহারেরও সুপারিশ করেছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতীতের দুর্নীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এছাড়া ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে শিল্পপার্ক গড়ে তোলা, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রীড়া উন্নয়ন, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রবাসীদের সেবা সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।