আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত দলটি রিফাইন্ড, তৃণমূল কিংবা অন্য কোনো নামেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার বক্তব্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার এবং বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে তা অনুবাদসহ প্রকাশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় রিফাইন্ড, তৃণমূল কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে দলটির কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
এ সময় তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বেগ বা আপত্তির সুযোগ নেই।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদীঘেঁষা উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ভুগছে। এই সংকট নিরসনে নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন।
ভূ-রাজনৈতিক কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে তা কূটনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হবে, তবে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতের সরকার জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়েছিল। বর্তমান সরকার পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায়।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি থেকে সরে আসা নয়। বাংলাদেশ তিস্তা ও গঙ্গাসহ ৫৩টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দেশের প্রয়োজনেই নদী শাসন ও ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।