বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অন্যায়-অত্যাচারের বিচার অবশ্যই প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই প্রতিশোধের মনোভাব থেকে বিচারের নামে অবিচার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রয়াত মা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতন ও অন্যায়ের পরও প্রতিশোধ নয়, বরং দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার শিক্ষাই তিনি পরিবার থেকে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম— এত নির্যাতনের পর প্রতিশোধ নেব কি না, তিনি বলতেন, প্রতিহিংসা নয়; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও। একই শিক্ষা তার ভাইও দিতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৬০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ও নির্যাতিতদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব পক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচার অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই বিচার প্রক্রিয়া প্রতিহিংসার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সময় বেশি লাগলেও সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিগত সরকারের সময় ব্যাপক রাজনৈতিক নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার কারণে দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া ছিলেন। তবে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত অর্জন।
দেশকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচার, সম্মান এবং সমান অধিকার ভোগ করবে। নিরাপদ, মানবিক ও আইনের শাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদের হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।