রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) রোববার সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। ভিসা আবেদন, পাসপোর্ট জমা ও সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন শত শত আবেদনকারী। এ সময় অনেকেই অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ‘স্লট’ পেতে জটিলতা এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
আবেদনকারীরা জানান, বর্তমানে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্লট পাওয়া। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভিসা ফি ছাড়াও দ্রুত স্লটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ।
রাজধানীর বাংলামোটরের বাসিন্দা রবিন মিয়া বলেন, তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আবেদন করলেও স্লট পেতে সমস্যায় পড়ছেন। তার অভিযোগ, যেখানে ভিসা ফি প্রায় ১ হাজার ৫৩০ টাকা, সেখানে ডাবল এন্ট্রি স্লটের জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি আগের মতো অনলাইনে আবেদন করে দ্রুত কাগজপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আসা মোহাম্মদ আরাফাত রহমান বলেন, এবার স্লট পেতে তেমন সমস্যা না হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় জটিল হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় আবেদনকারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চোখের চিকিৎসার জন্য প্রথমবার ভারতে যেতে আসা গোপালগঞ্জের জয়ন্তী হালদারও ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেন। তিনি জানান, সময় লাগলেও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেই বাড়ি ফিরতে চান।
ভিসাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় রোববার আবেদনকারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি ছিল। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বর্তমানে ভারতীয় ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার আগে অনলাইনে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা স্লট নেওয়া বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীদের অভিযোগ, ভিসাকেন্দ্রের সেবার চেয়ে স্লট পাওয়া এবং দীর্ঘ অপেক্ষাই এখন তাদের প্রধান ভোগান্তির কারণ।